1. admin@motijheelnews24.com : admin :
       
শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন

গ্রিনল্যান্ড বিতর্কে ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক জার্মানির

  • Update Time : শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬

মতিঝিলনিউজ ক্রীড়া ডেস্ক : ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র পাঁচ মাস বাকি। তিন আয়োজক দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাকে ঘিরে যেখানে প্রস্তুতির শেষ ধাপে ব্যস্ত ফিফা, ঠিক তখনই এক অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক ঝড়ে কাঁপছে পুরো টুর্নামেন্ট। জার্মানিতে উঠেছে বিশ্বকাপ বয়কটের প্রস্তাব। আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে গ্রিনল্যান্ড বিতর্ক ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি।

হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ট্রাম্প ফের আলোচনায় এনেছেন গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার ইচ্ছা। তিনি একে “জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন” বলে ব্যাখ্যা করলেও ইউরোপজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। ডেনমার্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো এই প্রস্তাবকে সরাসরি সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

এই প্রেক্ষাপটে জার্মানি থেকে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন খ্রিস্টিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নের প্রভাবশালী নেতা ও চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্টজের ঘনিষ্ঠ জুর্গেন হার্ড। জার্মান দৈনিক বিল্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করতে হলে শেষ উপায় হিসেবে বিশ্বকাপ বাতিল বা বয়কটের কথাও ভাবা যেতে পারে।”

হার্ড কূটনৈতিক সমাধানের আশা করলেও প্রতীকী চাপ হিসেবে বয়কটের হুমকিকে উড়িয়ে দেননি। আর এই হুমকি মোটেও হালকা নয়। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির অনুপস্থিতি মানে শুধু মাঠের ভারসাম্য নয়, ফিফা ও আয়োজক দেশগুলোর জন্যও বহু মিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি।

ফুটবলের বাইরে পরিস্থিতি আরও জটিল। গ্রিনল্যান্ড পরিকল্পনার বিরোধিতা করায় জার্মানি, ফ্রান্স ও ডেনমার্কসহ আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে কূটনৈতিক উত্তেজনা প্রতিদিনই বাড়ছে।

এই বিতর্কে যোগ দিয়েছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মরগ্যানও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “ট্যারিফ আলোচনা চলাকালে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও ইতালি কি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত নয়? আটটি ফেভারিট দল না খেললে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।”

তার বক্তব্য উসকানির মতো শোনালেও সম্ভাবনাটি রীতিমতো নাড়া দিয়েছে ফুটবল বিশ্বকে ইউরোপীয় পরাশক্তিহীন এক বিশ্বকাপ কি আদৌ সম্ভব?

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জার্মান ফুটবলের কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তি ও আফ্রিকার অভিজ্ঞ কোচ ক্লদ লে রোয়া একই সুরে কথা বলেছেন। আপাতত সবই আলোচনা পর্যায়ে থাকলেও, এই হুমকি বাস্তবে রূপ নিলে ফিফার জন্য তা হবে এক নজিরবিহীন সংকট।

রাজনৈতিক বল এখনো রাজনীতির কোর্টেই আছে। তবে বার্লিন যদি সত্যিই হুমকি কার্যকর করে, তাহলে ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই হারাতে পারে নিজের সবচেয়ে বড় এক জায়ান্টকে।
মতিঝিলনিউজ/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2024
Theme Customized By bdit.com.bd