1. admin@motijheelnews24.com : admin :
       
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজঃ

রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে বিশেষ নজর দিতে হবে

  • Update Time : বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬

মতিঝিল নিউজ অর্থনীতি ডেস্ক : বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সম্পাদিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) কেবল দুই দেশের বাণিজ্যিক শুল্ক কমানোর একটি মাধ্যম নয়, বরং এটি উভয় দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করার একটি কাঠামো। চুক্তির সুফল পেতে বাংলাদেশকে গুণগত নীতির বাস্তবায়ন করতে হবে। রপ্তানি বাড়াতে পণ্যের গুণগত মানের ওপর জোর দিতে হবে। তৈরি পোশাকের মতো অন্য পণ্যের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি সই করে। চুক্তির সুফল বাংলাদেশ কীভাবে পেতে পারে, সে বিষয়ে জাপান দূতাবাসের সহায়তায় গতকাল সোমবার রাজধানীর বারিধারায় জাপান দূতাবাসে গবেষণা সংস্থা সিপিডি সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি উল্লেখ করেন, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গেই প্রথম ইপিএ স্বাক্ষর করেছে। এ চুক্তি শুধু উভয় দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর বিষয় নয়। কাস্টমস প্রক্রিয়া ও বাণিজ্য বিধির মতো নানা নীতিগত বিষয়ও রয়েছে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, জটিল আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক বাধা বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পরিবহন ও বন্দর অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাঁর মতে, জাপানের কঠোর মান বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক ও পরিদর্শন ব্যবস্থাকে উন্নত করতে হবে।

অপর মূল প্রবন্ধে জাপানের ন্যাশনাল গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজের প্রফেসর ইমেরিটাস কেনিচি ওহনো বলেন, সরকার কী কাজ করতে চায়, তার চেয়ে বড় বিষয় কতটুকু দক্ষতার সঙ্গে তা বাস্তবায়িত করছে।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের সিনিয়র ইকোনমিক অ্যাডভাইজার পোহ লিন লু শিল্পনীতিকে একটি ‘কড়া ওষুধ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ওষুধটি কাজ করবে কিনা, তা নির্ভর করে কতটা সঠিক রোগ নির্ণয় হয়েছে এবং ওষুধের প্রয়োগ কে এবং কীভাবে করছে তার ওপর।

অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বাংলাদেশের শিল্প খাতের বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে নীতির কোনো অভাব নেই। এখানে আসল সমস্যা হলো নীতির বাস্তবায়ন হয় না।

কেন শুধু তৈরি পোশাক খাতের জন্যই বিশেষ সুবিধা থাকবে– এমন প্রশ্ন তুলে এমসিসিআইর এই সাবেক সভাপতি বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ চাইলে সব খাতের জন্যই সমান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর মতে, নতুন নীতি তৈরির বদলে বাংলাদেশে বিদ্যমান জাপানি বিনিয়োগকারীদের সমস্যা সমাধান করাই হওয়া উচিত আগামীর নীতির মূল ভিত্তি।

সেমিনারে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. মনজুর হোসেন বলেন, বহুমুখীকরণ এখন সময়ের দাবি। কারণ বর্তমানে রপ্তানির সিংহভাগই কেবল একটি খাতের ওপর নির্ভরশীল। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর এবং ‘চীন প্লাস ওয়ান’ নীতির কারণে বাংলাদেশ জাপানি বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, ইপিএ কেবল পণ্য কেনাবেচার চুক্তি নয়, বরং এটি জ্ঞান, প্রযুক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের প্ল্যাটফর্ম। চুক্তির পূর্ণ সুবিধা নিতে হলে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতকে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানির ৭০ শতাংশেরও বেশি যায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং যুক্তরাজ্যে। এলডিসি থেকে উত্তরণের ফলে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারিয়ে যাওয়ার যে ঝুঁকি তৈরি হবে, তা মোকাবিলায় বাজার বৈচিত্র্যকরণে জাপান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হতে পারে। তবে জাপানি আমদানিকারকরা গুণমানের বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। জাপানের বাজারে জায়গা করে নিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
মতিঝিল নিউজ/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর দেখুন

© All rights reserved © 2024
Theme Customized By bdit.com.bd