জেনে নিন—কোন কোন খাবার আপনাকে সত্যিই সুস্থ রাখবে
মতিঝিল নিউজ 24 |জিয়াউর রহমান
সুস্থ জীবনযাপনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সঠিক খাদ্যাভ্যাস। আমরা কী খাই, কতটা খাই এবং কোন খাবার রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে—এসব বিষয়েই আধুনিক বিজ্ঞান সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, খাবারের ধরন বদলালে হৃদ্রোগ থেকে ডায়াবেটিস—অনেক গুরুতর রোগই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
হৃদ্রোগ প্রতিরোধে যেসব খাবার অপরিহার্য
অলিভ অয়েল
বাদাম
অ্যাভোকাডো
স্যামন ও ম্যাকেরেল মাছ
প্রতিদিন ২৫–৩০ গ্রাম ফাইবার (ওটস, ফল, সবজি, শিমজাতীয় খাবার)
কেন উপকারী?
ওমেগা–৩ রক্তে জমাট বাঁধা ও ইনফ্লামেশন কমায়। ফাইবার কোলেস্টেরল কমায় এবং পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
এড়িয়ে চলুন:
লাল মাংস, ভাজাপোড়া, প্রসেসড ফুড, অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট।
টাইপ–টু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস
সাদা চাল, ময়দা ও চিনি কমিয়ে ওটস, ব্রাউন রাইস, কুইনোয়া খাওয়া
প্রতিটি খাবারে প্রোটিন + ফাইবার + হেলদি ফ্যাট রাখা
পথ্য হিসেবে দারুচিনি, মেথি ও করোলা
কেন উপকারী?
কম গ্লাইসেমিক খাবার রক্তে হঠাৎ সুগার বাড়তে দেয় না। মেথি রক্তে গ্লুকোজ শোষণ কমায়। দারুচিনি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায়।
কোলন ক্যানসার ও অন্ত্রের সুস্থতা
লাল মাংস কমানো
প্রতিদিন ৪০০–৫০০ গ্রাম রঙিন ফল–সবজি
টকদই, প্রোবায়োটিক খাবার, প্রিবায়োটিক ফাইবার
উপকার:
ফাইবার শরীরে শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করে যা কোলনকে সুস্থ রাখে। ভালো গাট মাইক্রোবায়োম ইমিউন সিস্টেমও শক্তিশালী করে।
স্তন ও প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধে
সয়া প্রোডাক্ট (টোফু, সয়া দুধ)
তিসি, চিয়া সিড, আখরোট
ব্রকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি
উপকার:
সয়া আইসোফ্ল্যাভন ও লিগন্যান হরমোন ব্যালান্স উন্নত করে। ব্রকলির সালফোরাফেন শরীরের ডিটক্স এনজাইম সক্রিয় করে।
মস্তিষ্কের জন্য MIND ডায়েট
জাম, ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি
পালংশাক, ব্রকলি
হলুদ ও কালো গোলমরিচ
উপকার:
অ্যান্থোসায়ানিন ও লুটেইন মস্তিষ্কের বার্ধক্য কমায়।
কারকিউমিন স্মৃতিশক্তি রক্ষা করে ও আলঝেইমারসের ঝুঁকি কমায়।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সারসংক্ষেপ
দৈনিক খাদ্যতালিকায় যা থাকা জরুরি:
৮–১০ ধরনের রঙিন ফল–সবজি
স্বাস্থ্যকর ফ্যাট (অলিভ অয়েল, বাদাম, মাছ)
ফারমেন্টেড খাবার—দই
ডাল, ডিম, মাছ, মুরগি
আদা, রসুন, হলুদ
পর্যাপ্ত পানি ও গ্রিন টি
খাবারের সময়:
রাতের খাবার তাড়াতাড়ি খাওয়া ও মাঝে মাঝে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং খুব উপকারী।
গবেষণায় দেখা গেছে:
৬–১২ মাস নিয়ম মেনে চললে শরীরের জিন কার্যক্রম (এপিজেনেটিকস) পর্যন্ত বদলে যেতে পারে—ফলে অসুস্থতার ঝুঁকি ৭০–৯০% পর্যন্ত কমে যায়।
মতিঝিল নিউজ 24
“সুস্থ থাকার পথ খাবার থেকেই শুরু। সচেতনতাই নিরাপত্তা।”