মতিঝিলনিউজ বিনোদন ডেস্ক : ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে এবার উজ্জ্বলভাবে ধরা দিল বাংলাদেশের নাম। কানাডার টরন্টোতে আয়োজিত ফিফা বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করে বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে ও সংগীতশিল্পী সঞ্জয় দেব। শুক্রবার টরন্টো স্টেডিয়ামে কানাডা ও বসনিয়া ম্যাচের আগে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী আয়োজনে নোরা ফাতেহি ও ফরাসি পপ তারকা ভেজিড্রিমের সঙ্গে মঞ্চে পারফর্ম করেন সঞ্জয়।
বিশ্বকাপের এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি যেমন দর্শকদের নজর কাড়ে, তেমনি আলোচনার জন্ম দেয় তার পোশাকে ফুটে ওঠা বাংলাদেশের প্রতীকগুলো। সঞ্জয়ের পোশাকের ডান হাতার অংশে স্থান পেয়েছিল বাংলাদেশের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় ফুল শাপলা এবং জাতীয় পতাকার প্রতীক। পারফরম্যান্স চলাকালে একাধিকবার নিজের স্লিভের দিকে আঙুল নির্দেশ করে এসব প্রতীক বিশ্বদর্শকের সামনে তুলে ধরতে দেখা যায় তাকে। সামাজিক মাধ্যমে এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে সেই মুহূর্তের ভিডিও ও ছবি।
অনেকেই এটিকে বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের গর্বের প্রতিনিধিত্ব হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে দেশের জাতীয় পরিচয় তুলে ধরার এই উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে নেটিজেনদের। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সঞ্জয়, নোরা ফাতেহি ও ভেজিড্রিমের পাশাপাশি পারফর্ম করেন বিশ্বখ্যাত কানাডিয়ান শিল্পী মাইকেল বুবলে, অ্যালানিস মরিসেট ও আলেসিয়া কারা।
এ ছাড়া মঞ্চে গান পরিবেশন করেন জেসি রেয়েজ, ফিলিস্তিনি গায়িকা এলিয়ানা ও উইলিয়াম প্রিন্স। বৈচিত্র্যময় শিল্পীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান বিশ্বমঞ্চে কানাডার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়কে তুলে ধরে। আর সেই আয়োজনের মধ্যেই বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আলাদা নজর কাড়েন সঞ্জয়। খ্যাতি ও যশের চূড়ায় উঠলেও নিজের শেকড় আর দেশকে যে কতটা দারুণভাবে ভালোবাসা যায়, বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে তারই এক অনন্য এবং কালজয়ী উদাহরণ সৃষ্টি করলেন এই তরুণ।
পুরো বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের নজর যখন তার ওপর, তখন তিনি নিজের একক সাফল্যের চেয়ে স্বদেশের গৌরবকেই বড় করে দেখালেন। সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সঞ্জয় বলেন, ‘আমি যেখান (বাংলাদেশ) থেকে এসেছি, সেখানে সাধারণত এ রকম মুহূর্ত খুব একটা পাওয়া যায় না। তাই এটি শুধু আমার নিজের জন্য কোনো মুহূর্ত নয়, এটি আসলে আমার পুরো দেশের জন্য একটি বড় মুহূর্ত। আর হ্যাঁ, আমি আমার দেশের মানুষ ও আমার বাবা-মায়ের জন্য অত্যন্ত গর্বিত। আমার সত্যিই ভীষণ ভালো লাগছে।’
এই আনন্দের মাঝে বাংলাদেশের জন্য আরও একটি গর্বের বিষয় হলো, বিশ্ব-মাতানো এই গানটির কো-প্রডিউসার এবং লিরিকেও জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের নাম। সঞ্জয়ের সঙ্গে এই গানের সহ-প্রযোজনা এবং লিরিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশের আরেক কৃতী সন্তান রাসেল আলি।
মতিঝিলনিউজ/এআর