মতিঝিলনিউজ ধর্ম ও জীবন ডেস্ক : আল্লাহ তাআলা মানবজাতির হেদায়েতের জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছেন। তবে কোরআনে তাঁদের সবার নাম উল্লেখ করা হয়নি; বরং নির্দিষ্ট কিছু নবীর নামই তুলে ধরা হয়েছে, যাতে মানুষ তাদের জীবন থেকে বিশেষভাবে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। পবিত্র কোরআনে উল্লিখিত নবীদের সংখ্যা ও তাঁদের পরিচয় ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
কোরআনে মোট ২৫ জন নবী ও রাসুলের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে সুরা আনআমে একসাথে ১৮ জন নবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন ইবরাহিম (আ.), ইসহাক (আ.), ইয়াকুব (আ.), নুহ (আ.), দাউদ (আ.), সুলাইমান (আ.), আইয়ুব (আ.), ইউসুফ (আ.), মুসা (আ.), হারুন (আ.), জাকারিয়া (আ.), ইয়াহইয়া (আ.), ঈসা (আ.), ইলিয়াস (আ.), ইসমাঈল (আ.), ইলিইয়াস (আ.), ইউনুস (আ.) এবং লুত (আ.)।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর এটাই ছিল আমার প্রমাণ, যা আমি ইবরাহিমকে তাঁর জাতির বিরুদ্ধে দান করেছিলাম। আমি যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় উন্নীত করি।
নিশ্চয়ই তোমার রব প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। আর আমি তাকে ইসহাক ও ইয়াকুব দান করেছিলাম এবং প্রত্যেককে সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম। এর পূর্বে নুহকেও পথ দেখিয়েছিলাম। আর তার বংশধরদের মধ্য থেকে দাউদ, সুলাইমান, আইয়ুব, ইউসুফ, মুসা ও হারুনকে (পথ দেখিয়েছি)।
এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দেই। আর জাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা ও ইলিয়াস—তাঁরাও সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত। আর ইসমাঈল, ইলিয়াস, ইউনুস ও লুত—প্রত্যেককে আমি বিশ্বজগতের ওপর মর্যাদা দান করেছি।’ (সুরা: আনআম, আয়াত: ৮২-৮৬)
এ ছাড়া পবিত্র কোরআনের অন্যান্য স্থানে আরো ৭ জন নবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন ইদরিস (আ.), হুদ (আ.), শুআইব (আ.), সালিহ (আ.), জুল-কিফল (আ.), আদম (আ.) এবং সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)।
সুতরাং পবিত্র কোরআনে মোট ২৫ জন নবী-রাসুলের নাম উল্লেখ থাকলেও নবী-রাসুলের প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি এবং প্রত্যেক নবী-রাসুলই মর্যাদাবান। তার পরও কোরআনে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের জীবনী ও দাওয়াতের কাহিনি মানুষের জন্য শিক্ষা, উপদেশ ও হেদায়েতের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
মতিঝিলনিউজ/এআর