মতিঝিলনিউজ ধর্ম ও জীবন ডেস্ক : রাসুল (সা.)-এর আখলাক বিষয়ক শিক্ষাগুলো সিরাতের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নবী-আদর্শে নিবেদিত প্রাণ সাহাবায়ে কেরাম ইবাদত-বন্দেগি, মেহনত-মুজাহাদার পাশাপাশি উন্নত আখলাকেরও অধিকারী ছিলেন। সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব, পরোপকার, অসুস্থের সেবা, আত্মীয়তার হক আদায় ইত্যাদি উত্তম গুণাবলি ছিল তাদের চরিত্রের ভূষণ। আর এই চরিত্রগুণ তারা আহরণ করেছিলেন সিরাতুন্নাবী থেকেই।
আবু জর গিফারি রা. একদিন একটি ডোরাকাটা সুন্দর চাদর গায়ে জড়িয়ে ‘রাবায়া’ নামক স্থানে বসেছিলেন। পাশে ঠিক একই মানের ও একই রংয়ের চাদর গায়ে তার গোলামও বসেছিল। এটা দেখে গোত্রের লোকেরা বলল, ওই চাদরটি যদি আপনি লুঙ্গি হিসেবে পরিধান করতেন তবে সুন্দর লাগত। তাকে অন্য একটি কাপড় দিলেও তো চলত।
আবু জর রা. বললেন, আমার একজন গোলাম ছিল, যাকে অনারব বলে একদিন কটূক্তি করেছিলাম। সে গিয়ে রাসুল (সা.) এর কাছে অভিযোগ করল। তখন রাসুল (সা.) আমাকে ডেকে বললেন, ‘হে আবু জর! তোমার মাঝে এখনো জাহেলিয়াতের রেশ রয়ে গেছে। যাদের আল্লাহ তোমাদের অধীন করেছেন, তারা তোমাদেরই ভাই।
অতএব তোমরা যা খাবে তাদেরও তাই খাওয়াবে, তোমরা যা পরবে তাদেরও তাই পরতে দিবে। সাধ্যাতীত কোনো কাজ তাদের ওপর চাপাবে না। পছন্দ না হলে বিক্রি করে দাও তবুও আল্লাহর মাখলুককে কষ্ট দিও না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩০)
আরেকটি ঘটনা, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. মসজিদে নববীতে ইতেকাফরত ছিলেন। এক আগন্তুক এসে সালাম দিয়ে তার সামনে বসল।
আগন্তুকের চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ, কপালে পেরেশানির ভাজ। ইবনে আব্বাস রা. বললেন, তোমাকে এত বিমর্ষ দেখাচ্ছে কেন? আগন্তুক বলল, হে রাসুলুল্লাহর চাচাতো ভাই! অমুকের কাছে আমার কিছু ঋণ আছে। আর এই কবরে শায়িত মহামানবের ইজ্জতের কসম, তা আদায়ের সামর্থ্য আমার নেই। ইবনে আব্বাস রা. বললেন, আমি কি ঋণদাতার সঙ্গে তোমার ব্যাপারে কথা বলব? আগন্তুক সম্মতি দিলে তিনি জুতা পরে মসজিদ থেকে বের হতে উদ্যত হলেন। আগন্তুক বিস্ময়ভরা কণ্ঠে প্রশ্ন করল, জনাব! ইতেকাফের কথা কি ভুলে গেলেন? তিনি উত্তর দিলেন, না, ভুলিনি। এরপর অশ্রুসজল চোখে নবীজীর কবরের দিকে ইশারা করে বললেন, বেশি দিনের কথা নয়, আমি কবরে শায়িত মহামানবকে বলতে শুনেছি—যে তার ভাইয়ের কোনো প্রয়োজনে বের হয়ে তা পূরণ করল, তার এ আমল ১০ বছরের ইতেকাফের চেয়েও উত্তম। (তবারানি, হাদিস: ৭৩২২)
অতএব, সিরাতের এই শিক্ষাগুলো ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ রাখার জন্য নয়; বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়নের জন্য। আমরা যদি নবীজীর আখলাককে নিজেদের জীবনে ধারণ করতে পারি, তাহলে ব্যক্তি, সমাজ ও মানবসভ্যতা-সবই হয়ে উঠবে শান্তি, সৌহার্দ্য ও কল্যাণে ভরপুর। এই শিক্ষাই সিরাতের প্রকৃত বার্তা-মানুষ হও, মানবতার পাশে দাঁড়াও, আর আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে জীবনকে গড়ে তোলো।
মতিঝিলনিউজ/এআর