মতিঝিলনিউজ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরায়েলের একটি বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করেছে মার্কিন বিমান বাহিনীর অন্তত ১২টি শক্তিশালী স্টিলথ যুদ্ধবিমান। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যে স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) যুদ্ধবিমানগুলো ইসরাইলে পৌঁছায়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কেএএনের বরাতে আনাদোলু এ খবর জানিয়েছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার প্রায় এক ডজন (১২টি) এফ-২২ র্যাপ্টর যুদ্ধবিমান দক্ষিণ ইসরায়েলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। পঞ্চম প্রজন্মের এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো মূলত আকাশপথে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে এবং শত্রুপক্ষের রাডার ফাঁকি দিয়ে নিখুঁত হামলায় সক্ষম।
সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, এই বিমানগুলো বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমানের মধ্যে অন্যতম এবং এগুলো শুধু যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রয়েছে। এদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজের মধ্যে রয়েছে- শত্রু অঞ্চল ভেদ করা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনা অকার্যকর করা।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, ইরান যদি কোনো পাল্টা হামলার চেষ্টা করে, তাহলে এই স্টিলথ যুদ্ধবিমানগুলো আকাশপথেই তা রুখে দিতে এবং প্রয়োজনে ইরানের অভ্যন্তরে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে মূল ভূমিকা রাখবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন-এর বক্তৃতায় ইরানকে শক্তিশালী হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং ইরানের পরমাণু ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক সক্ষমতা লাভ করতে দেয়া হবে না।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি করেছে। এর মধ্যে বড় বড় বিমানবাহী রণতরী এবং অন্যান্য বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র কাতার ও বাহরাইনে তাদের ঘাঁটি থেকে কিছু সেনা সরিয়ে নিচ্ছে এবং লেবাননে মার্কিন দূতাবাস থেকে অনাবশ্যক কর্মীদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
বিভিন্ন দেশ, যেমন জার্মানি, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া ইরান থেকে নিজেদের নাগরিকদের বের হয়ে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে, যা সংকটের মধ্যে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনাও চলছে, যেখানে ইরান পরমাণু চুক্তি বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, তবে বড় ক্ষেত্রে আলোচনায় আরও শর্ত তুলেছে। ইউএস-ইরান উত্তেজনা শুধু সামরিক হুমকি নয়; এছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা, হুমকিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি ও বিভাজিত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও সংঘর্ষ চলমান।
মতিঝিলনিউজ/এআর