1. admin@motijheelnews24.com : admin :
       
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজঃ

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

  • Update Time : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

মতিঝিলনিউজ প্রতিবেদক : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২২ সেন্টিমিটার, যেখানে বিপৎসীমা নির্ধারিত ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তা নদীর পানি। এর আগে সকাল ৯টায় পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচে ছিল।

হঠাৎ এত পানি বেড়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। লালমনিরহাট ও নীলফামারি জেলার ৭টি উপজেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ইতোমধ্যে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। পানির তীব্র চাপে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে রবিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২২ মিটার। এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পাউবো সূত্র জানিয়েছে, উজানে ভারতে কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মৌসুমে এর আগে গত ২৩ জুন সর্বপ্রথম ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও পরদিনই তা নেমে যায়। তবে, কয়েক দিন ওঠানামা করার পর রবিবার দুপুর থেকে পানি আবারও দ্রুত বাড়তে শুরু করে এবং সন্ধ্যায় তা বিপৎসীমা অতিক্রম করে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পানি বৃদ্ধির ফলে চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তা ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। আকস্মিক এই বন্যায় নদীপাড়ের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে, শিশু, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী মানুষ এবং গৃহপালিত গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দি পরিবারের সদস্যরা। বন্যার পানির সঙ্গে সঙ্গে সাপ ও পোকামাকড়ের প্রাদুর্ভাবও দেখা দিয়েছে।

এদিকে, পানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ নদী তীরবর্তী এলাকার উঁচু রাস্তাগুলো চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড এসব বাঁধ সংস্কার না করে ফেলে রাখে। বর্ষা এলে জরুরি মেরামতের নামে সরকারি অর্থ অপচয় করা হয়। শুষ্ক মৌসুমে টেকসই কাজ করলে আজ এই বাঁধগুলো ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ত না।

তিস্তাপাড়ে লালমনিরহাটের গোবর্দ্ধন গ্রামের বাসিন্দা আজিজার রহমান বলেছেন, “বিকেল থেকে পানি হু হু করে বাড়ছে। চরাঞ্চলের বেশকিছু বাড়িতে পানি উঠেছে। পানির যে চাপ, তাতে বড় বন্যার আশঙ্কা করছি। বড় বন্যা হলে দীর্ঘদিন সংস্কার না করা বাঁধগুলো ভেঙে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বন্যার সময় নদীপাড়ের আমরা মানুষজন নির্ঘুম রাত কাটাই।”

লালমনিরহাটের গরিবুল্লাহরটারী গ্রামের নাজিমুদ্দিন বলেন, “আজকে পানি বাড়ার পরিমাণটা অনেক বেশি। চরাঞ্চলের অনেক বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি এলাকায় শিশু, বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম কষ্টে থাকতে হয়। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি রাখার জায়গা থাকে না। চারদিকে শুধু পানি আর পানি।”

নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিসা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ী, গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানিয়েছেন, উজানের ঢলে রবিবার দুপুর থেকে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ বাড়ছে। সন্ধ্যা ৬টায় তা বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। নদী তীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
মতিঝিলনিউজ/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর দেখুন

© All rights reserved © 2024
Theme Customized By bdit.com.bd