1. admin@motijheelnews24.com : admin :
       
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০১:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ডিএনডি বাঁধবিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত সব দলকে রাজনীতির সুযোগ দিতে হবে, জনগণই যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেবে : মির্জা ফখরুল খামেনির সঙ্গে দেখা করতে চান ট্রাম্প এক রাতের গল্প নিয়ে ঋতুপর্ণার ‘নেভার মাইন্ড’ অনন্য স্বাদের ঐতিহ্যবাহী নেহারি সিআইডির প্রধান হলেন ডিআইজি আলী আকবর ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আজ বংশাল থানা ৩২ নং ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman-এর শাহাদাত বার্ষিকী পালন করা হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন প্যান্টে বসলো রানি মৌমাছি, মুহূর্তে যুবকের পশ্চাৎদেশে চাক বাঁধলো মৌমাছির ঝাঁক!
ব্রেকিং নিউজঃ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ডিএনডি বাঁধবিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত সব দলকে রাজনীতির সুযোগ দিতে হবে, জনগণই যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেবে : মির্জা ফখরুল খামেনির সঙ্গে দেখা করতে চান ট্রাম্প এক রাতের গল্প নিয়ে ঋতুপর্ণার ‘নেভার মাইন্ড’ অনন্য স্বাদের ঐতিহ্যবাহী নেহারি সিআইডির প্রধান হলেন ডিআইজি আলী আকবর ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আজ বংশাল থানা ৩২ নং ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman-এর শাহাদাত বার্ষিকী পালন করা হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন প্যান্টে বসলো রানি মৌমাছি, মুহূর্তে যুবকের পশ্চাৎদেশে চাক বাঁধলো মৌমাছির ঝাঁক!

শাওয়াল মাসে ইতিহাসের শিক্ষা ও আত্মগঠন

  • Update Time : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬

মতিঝিলনিউজ ধর্ম ও জীবন ডেস্ক : পবিত্র রমজান মাসের প্রশান্ত ছায়া বিদায় নেওয়ার পর যে মাসটি মুসলিম জীবনে নতুন অর্থ নিয়ে উপস্থিত হয়, সেটি শাওয়াল। শাওয়াল আরবি শব্দ, যা ‘শাওল’ ক্রিয়ামূল থেকে উদ্ভূত, অর্থ উটের লেজ বহন করা, রূপক অর্থ ভ্রমণ করা। এ মাসে আরবের লোকেরা ঘরবাড়ি ছেড়ে শিকারে বের হতো। তাই এ মাসের নাম দেওয়া হয়েছে ‘শাওয়াল’।
সাধারণত এই মাসকে আমরা ঈদুল ফিতরের আনন্দ ও শাওয়ালের ছয় রোজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখি। কিন্তু ইতিহাসের আয়নায় তাকালে দেখা যায়, শাওয়াল শুধু উৎসবের নয়, বরং সংগ্রাম, আত্মশুদ্ধি, সামাজিক পুনর্গঠন এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থার এক উজ্জ্বল অধ্যায়।

ইসলামী ইতিহাসের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা গাজওয়ায়ে উহুদ সংঘটিত হয় তৃতীয় হিজরির এই শাওয়াল মাসেই। সে যুদ্ধে মুসলমানরা সাময়িক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হলেও এর ভেতরেই নিহিত ছিল গভীর শিক্ষার ভাণ্ডার।
কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা দুর্বল হয়ে পোড়ো না এবং দুঃখ কোরো না; যদি তোমরা মুমিন হও, তবে তোমরাই বিজয়ী হবে।’

(সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৯)

উহুদের ঘটনায় স্পষ্ট হয়, বিজয়-পরাজয় আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা, আর এই পরীক্ষার মধ্য দিয়েই ঈমানের পরিশুদ্ধি ঘটে। সাহাবায়ে কেরাম এই ঘটনার মাধ্যমে শিখেছিলেন শৃঙ্খলা, আনুগত্য এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকার শিক্ষা।

অষ্টম হিজরিতে শাওয়াল মাসেই সংঘটিত হয় গাজওয়ায়ে হুনাইন।
যেখানে মুসলমানদের একটি বড় বাহিনী প্রথমে নিজেদের সংখ্যাধিক্যের কারণে আত্মবিশ্বাসে কিছুটা শৈথিল্য দেখায়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আল্লাহর সাহায্যে তারা বিজয়ী হয়। পবিত্র কোরআনে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘হুনাইনের দিনে তোমাদের সংখ্যাধিক্য তোমাদেরকে গর্বিত করেছিল, কিন্তু তা তোমাদের কোনো উপকারে আসেনি।’

(সুরা : তাওবা, আয়াত : ২৫)

এ ঘটনায় মুসলিম উম্মাহর জন্য সুস্পষ্ট শিক্ষা হলো সংখ্যা, শক্তি বা বাহ্যিক উপকরণ নয়, প্রকৃত বিজয় নির্ভর করে ঈমান, তাকওয়া ও আল্লাহর ওপর নির্ভরতার ওপর।

শাওয়াল মাসে মহানবী (সা.)-এর ব্যক্তিগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ও স্মরণীয়।
তিনি এ মাসেই উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.)-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এ ঘটনা তৎকালীন সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, যেখানে শাওয়াল মাসে বিবাহকে অশুভ মনে করা হতো। মহানবী (সা.) তাঁর আমলের মাধ্যমে এই ভ্রান্ত ধারণা দূর করেন এবং দেখিয়ে দেন, ইসলামে কুসংস্কারের কোনো স্থান নেই।

সাহাবা ও তাবেঈনদের জীবনে শাওয়াল ছিল ধারাবাহিক ইবাদতের মাস। তাঁরা রমজানের ইবাদতকে শাওয়ালে অব্যাহত রাখতেন। বিশেষভাবে শাওয়ালের ছয় রোজা সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখার পর শাওয়ালের ছয় রোজা রাখে, সে যেন সারা বছর রোজা রাখল।’

(মুসলিম, হাদিস : ১১৬৪)

ইতিহাস থেকে জানা যায়, সালাফে সালেহিন এই ছয় রোজাকে শুধু নফল ইবাদত হিসেবে নয়, বরং রমজানের ঘাটতি পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করতেন। তাঁরা এটিকে ঈমানের ধারাবাহিকতা রক্ষার একটি বাস্তব প্রয়াস হিসেবে দেখতেন।

শাওয়াল মাস মুসলিম সমাজের সামাজিক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ঈদের পর মুসলমানরা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্নির্মাণ করে নিতেন। দান-সদকা এবং পারস্পরিক সহানুভূতির মাধ্যমে সমাজকে সুদৃঢ় করতেন। সাহাবাদের জীবনে দেখা যায়, তাঁরা এই সময়ে অভাবীদের পাশে দাঁড়ানো, আত্মীয়তার বন্ধন জোরদার করা এবং সমাজে ন্যায় ও করুণা প্রতিষ্ঠায় বিশেষ গুরুত্ব দিতেন।

আজকের বাস্তবতায় শাওয়াল আমাদের জন্য এক গভীর বার্তা বহন করে। এটি শুধু উৎসব-পরবর্তী একটি মাস নয়, বরং এটি একটি ধারাবাহিকতা রক্ষা করে রমজানের আত্মশুদ্ধিকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ছড়িয়ে দেওয়ার এক বাস্তব সুযোগ।

উহুদ আমাদের শেখায় ধৈর্য ও আত্মসমালোচনা, হুনাইন আমাদের সতর্ক করে অহংকার থেকে, আর নবীজির জীবনের ঘটনাগুলো আমাদের মুক্ত করে কুসংস্কার থেকে।

কাজেই শাওয়াল মাসকে আমরা যদি ইতিহাসের আলোকে দেখি, তাহলে এটি হয়ে ওঠে আত্মগঠনের এক অনন্য অধ্যায়। এই মাস আমাদের আহবান জানায়; ইবাদতে দৃঢ় থাকতে, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে এবং ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে ইসলামের নৈতিক আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নববী আদর্শের আলোকে জীবনাতিপাত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক
মতিঝিলনিউজ/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর দেখুন

© All rights reserved © 2024
Theme Customized By bdit.com.bd