1. admin@motijheelnews24.com : admin :
       
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০১:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ডিএনডি বাঁধবিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত সব দলকে রাজনীতির সুযোগ দিতে হবে, জনগণই যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেবে : মির্জা ফখরুল খামেনির সঙ্গে দেখা করতে চান ট্রাম্প এক রাতের গল্প নিয়ে ঋতুপর্ণার ‘নেভার মাইন্ড’ অনন্য স্বাদের ঐতিহ্যবাহী নেহারি সিআইডির প্রধান হলেন ডিআইজি আলী আকবর ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আজ বংশাল থানা ৩২ নং ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman-এর শাহাদাত বার্ষিকী পালন করা হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন প্যান্টে বসলো রানি মৌমাছি, মুহূর্তে যুবকের পশ্চাৎদেশে চাক বাঁধলো মৌমাছির ঝাঁক!
ব্রেকিং নিউজঃ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ডিএনডি বাঁধবিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত সব দলকে রাজনীতির সুযোগ দিতে হবে, জনগণই যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেবে : মির্জা ফখরুল খামেনির সঙ্গে দেখা করতে চান ট্রাম্প এক রাতের গল্প নিয়ে ঋতুপর্ণার ‘নেভার মাইন্ড’ অনন্য স্বাদের ঐতিহ্যবাহী নেহারি সিআইডির প্রধান হলেন ডিআইজি আলী আকবর ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আজ বংশাল থানা ৩২ নং ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman-এর শাহাদাত বার্ষিকী পালন করা হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন প্যান্টে বসলো রানি মৌমাছি, মুহূর্তে যুবকের পশ্চাৎদেশে চাক বাঁধলো মৌমাছির ঝাঁক!

১৭ রমজান বদর দিবস : বদর প্রান্তরে নববী দোয়া ও আল্লাহর সাহায্য

  • Update Time : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬

মতিঝিলনিউজ ধর্ম ও জীবন ডেস্ক : ইসলামের ইতিহাসে বদর যুদ্ধ ছিল সত্য ও মিথ্যার মধ্যকার প্রথম বড় সংঘর্ষ। বাহ্যিক দৃষ্টিতে এটি ছিল অসম এক যুদ্ধ।একদিকে সুসজ্জিত ও সংখ্যায় প্রায় এক হাজার মুশরিক, অন্যদিকে অল্পসংখ্যক ও সীমিত সামর্থ্যের তিনশ’ তের জন মুসলিম। কিন্তু এই যুদ্ধের প্রকৃত শক্তি ছিল ঈমান, আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আন্তরিক দোয়া।

যুদ্ধের সেই সংকটময় মুহূর্তে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর দরবারে যে আকুল মিনতি করেছিলেন এবং আল্লাহ তাআলা যেভাবে ফেরেশতাদের মাধ্যমে মুসলিমদের সাহায্য করেছিলেন, তা কোরআন ও হাদিসে বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে।

উমার ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত এক দীর্ঘ হাদিসে বদর যুদ্ধের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যুদ্ধের দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুশরিকদের বিশাল বাহিনী দেখলেন, তখন তিনি তাঁর সাহাবিদের সংখ্যা ও সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করলেন। কিন্তু এই বাস্তবতা তাকে হতাশ করেনি; বরং তিনি কিবলামুখী হয়ে দুই হাত উঁচু করে আল্লাহর দরবারে আকুল দোয়া করতে লাগলেন।
তিনি বলছিলেন, “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছ তা পূরণ করো। যদি এই ক্ষুদ্র মুসলিম বাহিনী ধ্বংস হয়ে যায়, তবে পৃথিবীতে তোমার ইবাদত করার মতো আর কেউ থাকবে না।” (মুসলিম, হাদিস: ১৭৬৩)

এই দৃশ্য নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আল্লাহর প্রতি গভীর নির্ভরতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি এত দীর্ঘ সময় ধরে হাত তুলে দোয়া করছিলেন যে এক পর্যায়ে তাঁর কাঁধ থেকে চাদর পড়ে যায়।
তখন হযরত আবূ বকর (রা.) এসে চাদরটি তুলে তাঁর কাঁধে দেন এবং সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, “হে আল্লাহর রাসুল! আপনার এই দোয়া যথেষ্ট। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করবেন।”

এই মুহূর্তেই আল্লাহ তাআলা কোরআনের মাধ্যমে সুসংবাদ দেন—

إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ

“স্মরণ কর, যখন তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেছিলে; তখন তিনি তা কবুল করেছিলেন এবং বলেছিলেন, আমি তোমাদেরকে এক হাজার ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করব, যারা একের পর এক আসবে।”
(সূরা আনফাল ৮:৯)

এই আয়াত প্রমাণ করে যে, বদরের বিজয় শুধু সামরিক কৌশলের ফল ছিল না; বরং এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ সাহায্যের ফল। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে মুসলিম সৈনিকরা এমন দৃশ্য দেখেছিলেন যা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।
একজন আনসারী সাহাবি যখন এক মুশরিককে তাড়া করছিলেন, তখন তিনি আকাশ থেকে বেত্রাঘাতের শব্দ শুনতে পেলেন এবং একজন অশ্বারোহীর আওয়াজ শুনলেন—“হে হায়যূম, সামনে এগিয়ে যাও।” পরে তিনি দেখলেন মুশরিকটি ইতিমধ্যেই আঘাতে মাটিতে পড়ে গেছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ঘটনা শুনে বলেছিলেন, এটি তৃতীয় আকাশ থেকে আগত ফেরেশতাদের সাহায্য।

এইভাবে আল্লাহর অদৃশ্য সাহায্যে মুসলিমরা সেদিন আশ্চর্যজনক বিজয় লাভ করেন। সত্তর জন মুশরিক নিহত হয় এবং সত্তর জন বন্দী হয়। কিন্তু যুদ্ধের পর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে, যা ইসলামের ন্যায়নীতি ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেয়েছে।

যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবিদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। হযরত আবূ বকর (রা.) মত দেন যে, বন্দীদের কাছ থেকে মুক্তিপণ গ্রহণ করা হোক। এতে মুসলিমদের আর্থিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং আশা করা যায় যে তাদের মধ্যে অনেকেই পরে ইসলাম গ্রহণ করবে। অন্যদিকে হযরত উমার (রা.) মত দেন যে, যেহেতু তারা ইসলামের প্রধান শত্রু, তাই তাদের শাস্তি দেওয়া উচিত।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর (রা.)-এর মত গ্রহণ করেন এবং বন্দীদের মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা সূরা আনফালের আয়াত নাজিল করে এ বিষয়ে ভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন—

مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الأَرْضِ

“দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাস্ত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোনো নবীর জন্য সমীচীন নয়…” (সূরা আনফাল আয়াত : ৬৭)

এই আয়াত নাজিল হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকর (রা.) গভীরভাবে বিচলিত হয়ে পড়েন এবং কেঁদে ফেলেন। নবীজি বলেন, বন্দীদের কাছ থেকে মুক্তিপণ গ্রহণের কারণে যে শাস্তির আশঙ্কা হয়েছিল, তা তাঁর কাছে অত্যন্ত নিকটবর্তী করে দেখানো হয়েছিল।

এই ঘটনার মাধ্যমে ইসলামের ইতিহাসে একটি গভীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমত, ঈমান ও দোয়া এমন এক শক্তি যা সীমিত সামর্থ্যকেও অসীম শক্তিতে পরিণত করতে পারে। দ্বিতীয়ত, আল্লাহর সাহায্য কখনো কখনো এমনভাবে আসে যা মানুষের চোখে দৃশ্যমান নয়, কিন্তু বাস্তবে তা অত্যন্ত কার্যকর। তৃতীয়ত, ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পরামর্শের গুরুত্ব অপরিসীম; এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও সাহাবিদের মতামত গ্রহণ করতেন। চতুর্থত, মানুষের সিদ্ধান্ত সৎ উদ্দেশ্যপূর্ণ হলেও আল্লাহর নির্দেশই চূড়ান্ত সত্য।

বদর যুদ্ধ তাই শুধু একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধ নয়; এটি ঈমান, তাওয়াক্কুল, দোয়া এবং আল্লাহর সাহায্যের এক জীবন্ত শিক্ষা। ইতিহাসের সেই ছোট মুসলিম বাহিনী আমাদের শিখিয়ে গেছে যে, সংখ্যার শক্তি নয়—বরং আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাসই প্রকৃত বিজয়ের মূল চাবিকাঠি।

লেখক: শিক্ষার্থী, এন আকন্দ কামিল মাদরাসা, নেত্রকোণা
মতিঝিলনিউজ/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর দেখুন

© All rights reserved © 2024
Theme Customized By bdit.com.bd