1. admin@motijheelnews24.com : admin :
       
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ডিএনডি বাঁধবিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত সব দলকে রাজনীতির সুযোগ দিতে হবে, জনগণই যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেবে : মির্জা ফখরুল খামেনির সঙ্গে দেখা করতে চান ট্রাম্প এক রাতের গল্প নিয়ে ঋতুপর্ণার ‘নেভার মাইন্ড’ অনন্য স্বাদের ঐতিহ্যবাহী নেহারি সিআইডির প্রধান হলেন ডিআইজি আলী আকবর ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আজ বংশাল থানা ৩২ নং ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman-এর শাহাদাত বার্ষিকী পালন করা হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন প্যান্টে বসলো রানি মৌমাছি, মুহূর্তে যুবকের পশ্চাৎদেশে চাক বাঁধলো মৌমাছির ঝাঁক!
ব্রেকিং নিউজঃ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ডিএনডি বাঁধবিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত সব দলকে রাজনীতির সুযোগ দিতে হবে, জনগণই যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেবে : মির্জা ফখরুল খামেনির সঙ্গে দেখা করতে চান ট্রাম্প এক রাতের গল্প নিয়ে ঋতুপর্ণার ‘নেভার মাইন্ড’ অনন্য স্বাদের ঐতিহ্যবাহী নেহারি সিআইডির প্রধান হলেন ডিআইজি আলী আকবর ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আজ বংশাল থানা ৩২ নং ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman-এর শাহাদাত বার্ষিকী পালন করা হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন প্যান্টে বসলো রানি মৌমাছি, মুহূর্তে যুবকের পশ্চাৎদেশে চাক বাঁধলো মৌমাছির ঝাঁক!

জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে ইসলামী নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি

  • Update Time : বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মতিঝিলনিউজ ধর্ম ও জীবন ডেস্ক : সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নেতৃত্ব নির্বাচন মানবসভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়। একটি জাতির ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করে তাদের নির্বাচিত নেতৃত্বের সততা, যোগ্যতা ও ন্যায়পরায়ণতার ওপর। ইসলামের দৃষ্টিতে নেতৃত্ব কোনো সম্মান বা ক্ষমতার প্রতীক নয়; বরং এটি একটি গুরুতর দায়িত্ব, আমানত এবং জবাবদিহির বিষয়। কোরআন ও হাদিসে নেতৃত্ব নির্বাচন এবং দায়িত্ব অর্পণের ক্ষেত্রে স্পষ্ট নীতিমালা প্রদান করা হয়েছে, যা আজকের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক।

প্রথমত, ইসলাম নেতৃত্বকে একটি আমানত হিসেবে বিবেচনা করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন যে, তোমরা আমানত তার যোগ্য ব্যক্তির কাছে অর্পণ করো এবং যখন মানুষের মধ্যে বিচার করো, তখন ন্যায়বিচার করো।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৫৮)

এই আয়াতের মূল শিক্ষা হলো, দায়িত্ব বা ক্ষমতা এমন ব্যক্তির হাতে দিতে হবে, যিনি তা সঠিকভাবে পালনের যোগ্য। অযোগ্য, দুর্নীতিগ্রস্ত বা অবিশ্বস্ত ব্যক্তির হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়া শুধু সামাজিক ক্ষতির কারণ নয়, বরং এটি আমানতের খিয়ানত।

এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যখন দায়িত্ব অযোগ্য ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত করা হবে, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করো।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৯)

এ হাদিস স্পষ্ট করে যে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে যোগ্যতার অবহেলা একটি জাতির পতনের লক্ষণ।

দ্বিতীয়ত, ইসলামে নেতৃত্বের অন্যতম শর্ত হলো সততা ও শক্তি বা সক্ষমতা।

পবিত্র কোরআনে ইউসুফ (আ.)-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘আমাকে দেশের ভাণ্ডারের দায়িত্ব দিন; নিশ্চয়ই আমি সংরক্ষণকারী ও জ্ঞানসম্পন্ন।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৫৫) অন্য আয়াতে মুসা (আ.) সম্পর্কে বলা হয়েছে, “নারীদ্বয়ের একজন বলল, হে আমার পিতা! আপনি একে মজুর নিযুক্ত করুন, কারণ আপনার মজুর হিসেবে উত্তম হবে সে ব্যক্তি, যে শক্তিশালী, বিশ্বস্ত।” (সুরা : কাসাস, আয়াত : ২৬)

অর্থাৎ একজন নেতৃত্বপ্রার্থীর মধ্যে দুটি গুণ অপরিহার্য—যোগ্যতা (সামর্থ্য ও দক্ষতা) এবং আমানতদারিতা (নৈতিকতা ও সততা)।

তৃতীয়ত, ইসলাম নেতৃত্বের প্রতি লোভ বা ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষাকে নিরুৎসাহিত করেছে। আবূ মূসা (রা.) থেকে বর্ণিত, দুই ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে নেতৃত্বের দায়িত্ব চাইলেন।
তখন তিনি বললেন, “যারা নেতৃত্ব কামনা করে এবং এর প্রতি লোভী হয়, আমরা তাদেরকে এ দায়িত্ব দিই না।” (বুখারি, হাদিস : ৭১৪৯)

এই হাদিসের শিক্ষা হলো, প্রকৃত নেতৃত্ব দায়িত্ববোধ থেকে আসে, ক্ষমতার লোভ থেকে নয়।

চতুর্থত, জনগণের দায়িত্ব সম্পর্কেও ইসলাম স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। জনপ্রতিনিধি নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়; এটি এক ধরনের সাক্ষ্য ও সুপারিশ। আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা ন্যায়ের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো এবং আল্লাহর জন্য সাক্ষ্য দাও।” (সুরা নিসা, আয়াত : ১৩৫)

ভোট দেওয়ার সময় একজন নাগরিক মূলত এই সাক্ষ্য প্রদান করেন যে, তার বিবেচনায় এই ব্যক্তি নেতৃত্বের যোগ্য। তাই পক্ষপাত, ভয়, লোভ বা দলীয় অন্ধতার কারণে অযোগ্য ব্যক্তিকে সমর্থন করা মিথ্যা সাক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

পঞ্চমত, ইসলাম শূরা বা পরামর্শভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,
“তাদের কাজ পরামর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।” (সুরা : শূরা, আয়াত : ৩৮) এ থেকে বোঝা যায়, জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্ধারণ ইসলামের ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এসব আয়াত ও হাদিসের আলোকে বলা যায় যে, ইসলামের দৃষ্টিতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন একটি নৈতিক ও আধ্যাত্মিক দায়িত্ব। এখানে ব্যক্তিগত স্বার্থ, দলীয় পরিচয় বা আবেগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রার্থীর চরিত্র, সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও জনকল্যাণে কাজ করার সক্ষমতা। কারণ নেতৃত্বের ভুল নির্বাচন শুধু সাময়িক রাজনৈতিক সমস্যা সৃষ্টি করে না, বরং তা সমাজে অন্যায়, দুর্নীতি ও অবিচারের পথ খুলে দিতে পারে।

অতএব, একজন সচেতন মুসলিমের জন্য প্রয়োজন গভীর বিবেচনা, দায়িত্ববোধ এবং আল্লাহভীতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। নেতৃত্ব নির্বাচন শুধু নাগরিক অধিকার নয়; এটি একটি আমানত, একটি সাক্ষ্য এবং এমন একটি সিদ্ধান্ত, যার জন্য একদিন মহান আল্লাহর সামনে জবাবদিহি করতে হবে।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক
মতিঝিলনিউজ/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর দেখুন

© All rights reserved © 2024
Theme Customized By bdit.com.bd