এনআরবিসি ব্যাংকের ১৩তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
রাজধানীর কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে হাইব্রিড পদ্ধতিতে এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসির ১৩তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান মো. নুরুল হক, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ, এফসিএ, এফসিএমএ, স্বতন্ত্র পরিচালক মো. আবুল বশর, মো. আনোয়ার হোসেন ও ব্যারিস্টার মো. শফিকুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. মো. তৌহিদুল আলম খান, এফসিএমএ। কোম্পানি সচিব (চলতি দায়িত্ব) মো. ফিরোজ আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় ব্যাংকের ডিএমডি ও সিওও মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম খান, ডিএমডি ও সিবিও মো. শাহীন হাওলাদার, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা পরিচালক এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডারগণ স্বশরীরে ও অনলাইনে অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন শেয়ারহোল্ডারদের আস্থাভাজন শাহ আলম বাবু এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সম্মানিত শেয়ারহোল্ডারবৃন্দ। সভায় অংশগ্রহণকারী শেয়ারহোল্ডাররা ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম, আর্থিক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
ব্যাংকের আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৫ সালে বিগত বছরের তুলনায় আমানত ২ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা বা ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৯ হাজার ৮৪২ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে ঋণ ও অগ্রিম ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৬ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ব্যাংকের মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।
সভায় চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে উদ্যোক্তা, শেয়ারহোল্ডার ও আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা।” তিনি জানান, ২০২৫ সালে ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা ২০২৪ সালের তুলনায় ২৩৭ কোটি টাকা বা ১০৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা ব্যাংকের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অর্জন।
তিনি আরও বলেন, সর্বোচ্চ পরিচালন মুনাফা অর্জিত হলেও শ্রেণিকৃত ঋণ বৃদ্ধি এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রভিশন সংরক্ষণের পরিমাণ বাড়ানোর কারণে চলতি বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। তবে শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তির ওপর ব্যাংককে আরও এগিয়ে নিতে পরিচালনা পর্ষদ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সভায় ব্যাংকের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি, সুশাসন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সংরক্ষণে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ব্যাংককে একটি টেকসই, আধুনিক ও আস্থার আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।