মতিঝিলনিউজ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের প্রতিনিধির সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনা খুব শিগগিরই শুরু হতে পারে। প্রস্তাবিত এই আলোচনা পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এতে অংশ নাও নিতে পারেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, খুব শিগগিরই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামাবাদে আগামী শুক্রবারের মধ্যেই একটি শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে।
ট্রাম্পের আলোচক দলের মধ্যে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রতিনিধি হিসেবে সাবেক উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার থাকছেন। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, নিরাপত্তা নিয়ে কিছু প্রশ্ন আছে।
টানা ৩৯ দিনের সংঘাতের পর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবকে একটি প্রাথমিক কাঠামো হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, যদিও এর কিছু শর্ত বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, নৌ সক্ষমতা ধ্বংস, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র অকার্যকর করা এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে দেশ দুটি এই হামলা চালায়।
এদিকে বুধবার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এক্সে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, ইসলামাবাদে শুক্রবার বৈঠকে বসবেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা।
শেহবাজ লেখেন, আমি উভয় দেশের নেতৃত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আগামী শুক্রবার ইসলামাবাদে তাদের প্রতিনিধি দলকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, যাতে সমস্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে পরবর্তী আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়।
যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, যা যুদ্ধ চলাকালে ইরান বন্ধ করে রেখেছিল।
শুক্রবার হওয়া চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে ইরানের প্রস্তাবিত জাহাজ চলাচলে টোল আরোপের পরিকল্পনা এবং ভূগর্ভস্থ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট
মতিঝিলনিউজ/এআর